### ভৌতিক গল্প: রাতের অশরীরী
বাংলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে আছে একটি পুরনো, ভগ্নদশা বাড়ি। গ্রামের মানুষজন তাকে *চৌধুরী ভিলা* নামেই চেনে। একসময় এখানে জমিদার চৌধুরীর রাজত্ব ছিল, চারপাশে তার প্রভাব-প্রতিপত্তির গল্প আজও লোকমুখে শোনা যায়। কিন্তু জমিদারের হঠাৎ মৃত্যুর পর থেকে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়। তারপর থেকেই বাড়িটি নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত সব গুজব— রাতে সেখানে অশরীরীর আবির্ভাব ঘটে।
#### কৌতূহলী আগন্তুক
শহর থেকে আসা অর্পণ নামের এক তরুণ ছিল দুঃসাহসী ও কৌতূহলী। গ্রামে বেড়াতে এসে সে বারবার চৌধুরী ভিলার ভূতের গল্প শুনতে লাগলো। গ্রামের বয়স্করা তাকে সাবধান করে বললো, *“ওই বাড়ির কাছেও যেও না, রাতের পর তো একেবারেই না।”* কিন্তু অর্পণ ভয় পেত না। তার মনে হলো, এগুলো কুসংস্কার ছাড়া কিছুই নয়।
একদিন সন্ধ্যায়, সূর্য ডোবার পর অর্পণ সিদ্ধান্ত নিলো বাড়িটি ঘুরে আসবে। হাতে ছোট্ট একটি টর্চ নিয়ে সে একা রওনা হলো। চারপাশে তখন শিয়ালের ডাক, বাতাসে ভেসে আসছে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। ভিলার সামনে পৌঁছে সে দেখলো দরজাটা আধখোলা, যেন কেউ অপেক্ষা করছে।
#### অশরীরীর ছায়া
ভেতরে ঢুকতেই হঠাৎ বাতাস কেমন যেন ভারী হয়ে গেলো। দেয়ালে ঝুলে থাকা ভাঙা ছবিগুলো টর্চের আলোয় অদ্ভুতভাবে নড়ছিল। অর্পণ টের পেলো, কেউ যেন তার পিছু নিচ্ছে। হঠাৎ করেই এক নারীর কান্নার শব্দ ভেসে এলো, যেন কারো বুকফাটা হাহাকার।
অর্পণের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলো। সামনে দেখলো সাদা পোশাক পরা এক মেয়ের অবয়ব ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। মুখটা দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু চোখ দুটো যেন অঙ্গারের মতো জ্বলছে। অবয়বটি কাছে আসতেই ভয়ে টর্চ অর্পণের হাত থেকে পড়ে গেলো। সে প্রাণপণে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।
#### গ্রামের সত্যকথা
পরদিন সকালে গ্রামের এক বৃদ্ধা তাকে জানালেন ভয়ঙ্কর কাহিনি। জমিদার চৌধুরীর একমাত্র কন্যা লাবণ্য বিয়ের আগের রাতে রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছিলো। শোনা যায়, তার প্রেম ভেঙে যাওয়ায় সে আত্মহত্যা করে। সেই রাত থেকেই তার আত্মা ভিলার ভেতর বন্দী হয়ে আছে। অনেকেই নাকি তার কান্না শুনেছে, কেউ কেউ তার ছায়াও দেখেছে।
#### শেষ রাত
অর্পণ ভেবেছিলো হয়তো সবই কল্পনা। তাই দুই দিন পর সে আবারও সেখানে ফিরে গেলো, এবার গ্রাম থেকে চুপিচুপি। হাতে টর্চ আর ক্যামেরা। উদ্দেশ্য— প্রমাণ করা ভূতের অস্তিত্ব নেই।
কিন্তু সে আর কখনো ফিরে আসেনি। পরদিন সকালে গ্রামবাসীরা বাড়ির দরজার সামনে তার টর্চ আর ক্যামেরা খুঁজে পেলো, কিন্তু অর্পণের কোনো খোঁজ মিললো না। ক্যামেরার ভেতর শেষ ভিডিওতে দেখা গেলো— অর্পণ ভয় পেয়ে দৌড়াচ্ছে, হঠাৎ সাদা পোশাকের অবয়ব তার দিকে এগিয়ে আসছে, তারপর ভিডিও অন্ধকার হয়ে গেছে।
#### অশরীরীর রহস্য
আজও চৌধুরী ভিলার ভেতর থেকে রাতে ক্ষীণ আলো দেখা যায়, আর ভেসে আসে লাবণ্যের করুণ কান্না। গ্রামের লোকেরা বলে, অর্পণও নাকি সেই অশরীরীর ছায়ার সাথে মিলিয়ে গেছে। তাই সূর্য ডোবার পর গ্রামের মানুষজন আর কখনোই ভিলার কাছে যায় না।
---
👉 যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে, নিচে আপনার মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না।
**লেখক: মনির হুসাইন**

0 Comments